সাঁতরাগাছি-খড়্গপুর চতুর্থ লাইন প্রকল্পে অনুমোদন দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, সাঁতরাগাছি থেকে খড়্গপুরের মধ্যে ১১১ কিলোমিটার অংশে চতুর্থ লাইন প্রকল্পে অনুমোদন দেওয়া হল। আপাতত কলকাতা থেকে খড়্গপুরের দিকে ইতিমধ্যে তিনটি লাইন আছে। এবার চতুর্থ লাইন তৈরি করা হচ্ছে। তার ফলে কলকাতা থেকে মুম্বই এবং চেন্নাই পর্যন্ত রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে বলে দাবি করেছেন রেলমন্ত্রী। সেইসঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, নয়া প্রকল্পের ফলে হাওড়া-খড়্গপুর লাইনের লোকাল ট্রেন পরিষেবাও আরও ভালো হবে।

‘মালগাড়ি লাইনে’ পরিণত হয়েছে হাওড়া-খড়্গপুর লাইন
যদিও আদৌও সেটা হবে কিনা, তা নিয়ে ধন্দে আছেন নিত্যযাত্রীরা। কারণ এই মুহূর্তে হাওড়া-খড়্গপুর লাইনে লোকাল ট্রেন পরিষেবা ভয়াবহ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে বলে অভিযোগ করেছেন নিত্যযাত্রীরা। তাঁদের দাবি, লোকাল ট্রেন মারাত্মক লেটে চলাচল করে। এমনকী একাধিক এক্সপ্রেস ট্রেনেরও সময়ের ঠিক থাকে না বলে অভিযোগ তুলেছেন যাত্রীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যাত্রী দাবি করেছেন, দক্ষিণ-পূর্ব রেল এই লাইনটাকে পুরো ‘মালগাড়ি লাইনে’ পরিণত করে দিয়েছে। মালগাড়ির ভারে ন্যুব্জ হয়ে যাওয়ায় লোকাল ট্রেনের চাপ সামলাতে পারছে না। তাই নিয়ম করে লোকাল ট্রেন লেট হচ্ছে। কখনও টিকিয়াপাড়া থেকে হাওড়ায় ট্রেন ঢুকতে এক ঘণ্টা থেকে দেড় ঘণ্টা লাগিয়ে দিচ্ছে। চতুর্থ লাইন চালু হলেও লোকাল ট্রেনের হাল কতটা ফিরবে, তা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ওই নিত্যযাত্রী।
আরও বাড়বে লোকাল বা এক্সপ্রেস ট্রেন
তারইমধ্যে রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন যে বছরপাঁচেকের মধ্যে চতুর্থ লাইনের কাজ শেষ হয়ে যাবে। আর নয়া লাইনের ফলে ওই রুটে কমপক্ষে ৫০টি নয়া ট্রেন পরিষেবা চালু করা যাবে। সেটা লোকাল ট্রেন হতে পারে। আবার মেল বা এক্সপ্রেস ট্রেনও হতে পারে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী।
সাঁতরাগাছি-খড়্গপুর চতুর্থ লাইন প্রকল্প
১) মোট প্রকল্পের দৈর্ঘ্য: ১১১ কিলোমিটার।
২) আনুমানিক ব্যয়: ২,৯০৫ কোটি টাকা
৩) আনুমানিক সময়: ওই প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পাঁচ বছর মতো লাগবে।
৪) ওই প্রকল্পের আওতায় আছে হাওড়া, পূর্ব মেদিনীপুর এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা।
৫) এক মেগা ব্রিজ আছে। বড় ব্রিজের সংখ্যা ১৫। ছোটখাটো ১০০টি ব্রিজ থাকছে।